সৌরভ জীবনী ১


                 -Ashiqur Rahman aksh-
প্রথমেই বলবো যারা আপাতত প্রেম নিয়ে ডিপ্রেশনে আছেন তারা এই গল্পটা পড়বেন না আর যদিও পড়েন তাহলে শেষ ৬ লাইন মনযোগ দিয়ে পড়বেন এবং মানবেন!

কিছুদিন যাবত আমার ফোনে অপরিচিত একটা নাম্বারে অনেক মেসেজ আসছিলো, আমি ভাবলাম এগুলো হয়তো আমার পরিচিত কোন মেয়ে বন্ধুর কাজ, কিন্তু আমার পরিচিত কেউ হবে বলে মনে হচ্ছিলো না...

আমি বেশকিছু দিন যাবত মেসেজ দেখেই যাচ্ছিলাম কোনো রিপ্লাই দেইনি, এমনিতেও আমার ফোনে মেসেজ থাকে না তাছাড়া আমার একান্ত কারো সাথে মেসেজে কথা বলার প্রয়োজন হয় না, যত কথাবার্তা আমি মেসেঞ্জারেই বলি।  আমি আমার ফোনে এই আবেগ ঢালা মেসেজ গুলো দেখে বেশ চিন্তিত হয়ে পরলাম, আসলে কে এটা.কে হতে পারে...!

আমি বেশ কয়েকবার কল করলাম কিন্তু কি আজব আমার কল টাও ধরছিলো না এমনকি কল ব্যাক পর্যন্ত করছিলো না,আমি আর এব্যাপারে পাত্তা দিলাম না, বেশকিছু দিন মেসেজ আসা বন্ধ ছিলো.....

সৌরভ জীবনী ১ || আকাশ

হঠাৎ সেদিন আমি আসরের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে মেসেজ আসলো, আমি রিপ্লাই না করে সাথে সাথে কল ব্যাক করলাম, কল টা ব্যাক করা মাত্রই কল রিসিভ করলো,করেই একটু একটু কান্নার আওয়াজ আমি চুপ থাকলাম,কোনো কথা বললাম না আর আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, আমি যা ভেবে ছিলাম ব্যাপার টা তার পুরো উল্টো, আমি ভেবেছিলাম এটা হয়তো কোনো মেয়ের নাম্বার অথচ ছেলের কান্নার আওয়াজ, আমি ভেবে ছিলাম হয়তো কেউ আমার সাথে মজা করছে অথচ কল টা রিসিভ করার সাথে সাথেই কান্নার আওয়াজ।
আমি একদম চুপ...কি বলবো কি করবো বুঝতে পারছি না,আর ব্যাপার টা সিরিয়াস আমি ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছি কারণ আমি তার কান্নার আওয়াজের পাশাপাশি রাস্তার কিছু রিকশা বাইকের হর্নের আওয়াজ পাচ্ছিলাম, একজন মানুষ রাস্তায় জনসম্মুখে কখনো অভিনয় করতে পারে না, সে ফোনে আমার সাথে কান্না করছে নিশ্চয়ই এটার কোনো কারণ আছে....

খানিকটা পর ছেলেটা মায়াবী কন্ঠে বললো দিয়া...
আমি চমকে গেলাম, দিয়া নামটা আমার খুব পরিচিত তাই আমি আর চুপ থাকতে পারলাম না, আমি বললাম কে আপনি? দিয়াকে চাচ্ছেন,কি হন আপনি ওর ?  

এবার সে একটু গলা খুকিয়ে বললো রিয়া..
অদ্ভুত আপনি মাত্রই বললেন দিয়া আবার এখন বলছেন রিয়া আসলে আপনি কাকে চান? না দুজন কেউ...আর আমার নাম্বার আপনাকে কে দিলো?
সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো আমি রিয়াকে চাই এবার আমি বুঝতে পারলাম আসলে আমার শুনতে ভুল হয়ে ছিলো আর একটা মানুষ কান্নার কন্ঠে রিয়া বললে দিয়া শুনা যাবে এটা খুব অস্বাভাবিক কিছু না। 

আমি খানিকটা চুপ থেকে বললাম আপনি রিয়াকে চান ভালো কথা কিন্তু কান্না কেনো করছেন? 

ছেলেটা কোনো কথা না বলে আমার পরিচয় জানতে চাইলো, অপরিচিত কাউকে নিজের পরিচয় দেয়া ঠিক না আমি জানি, তাসত্ত্বেও আমি তাকে আমার পরিচয় দিলাম কারণ আমি তার ব্যাপার টা বুঝতে পেরেছি হয়তো সে খুব খারাপ একটা পরিস্থিতিতে আছে..

সে আমার পরিচয় টা জেনে কাঁপা কণ্ঠে বলছে আপনার পরিচয় টা কি আসলেই সত্যি ভাই..!

আমি অবাক হয়ে বললাম আমি আপনাকে মিথ্যা কেন বলবো কি আজিব... 

ছেলেটা চুপ......

আমি কিছুসময় পর তাকে বললাম ফোন কেটে দিবো আমার নামাজ পড়তে হবে...

ছেলেটার কান্না আওয়াজ বেড়ে গেলো,সে আমাকে বললো প্লিজ ফোনটা কাটবেন না ভাই.. আমার খুব জরুরি কথা আছে আপনার সাথে...

বরাবরের মতো আমি আরও অবাক হয়ে গেলাম আমার সাথে তার কি কথা থাকতে পারে তাও অপরিচিত একটা মেয়ের ব্যাপারে সে নিজেও আমার পরিচিত কেউ না...

আমি তাকে বললাম আমি আপনাকে নামাজ পরে কল করছি,আমি নামাজ টা পড়ে আসি,সে বেচারা কোনো ভাবেই মানছে না,বলছে না ভাইয়া না, আপনি আমার ব্যাপার টা একটু বুঝার চেষ্টা করেন প্লিজ... 

আমি বললাম আপনি ফোন হাতে রাখেন আমি নামাজ টা ১০ মিনিটে শেষ করেই আপনাকে কল করছি ছেলেটা কাঁপা কণ্ঠে বলছে ভাইয়া এটা দোকানের নাম্বার আমি দোকান থেকে আপনাকে এতদিন মেসেজ করছিলাম...

আমি আরও বেশি অবাক হয়ে গেলাম, দোকানের নাম্বার..... 
এ-যুগে একটা ছেলে দোকানের নাম্বার থেকে আমাকে এতদিন মেসেজ করছে কি এমন কারণ তার....

আমি তাকে বললাম–কেনো,আপনার পারসোনাল কোনো ফোন নেই? অথবা মা বাবার?

সে বললো আমার পারসোনাল ফোন আছে আমার মা বাবারও আছে....

আমি বললাম : তাহলে? 

ছেলেটা – আসলে আমার ফোনটা আমার আব্বু নিয়ে গেছে কোনো ভাবেই আমি সে ফোন টা হাতে পাচ্ছি না আর পাবোও বলে মনে হয় না...

আমি বললাম তার কারণ? 

ছেলে টা বললো তার কারণ রিয়া....

ছেলেটার কথা শোনার আগ্রহ আমার বেড়েই যাচ্ছে কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছে এসব? 

আমি বললাম আপনি আমাকে সব খুলে বলেন কি হয়েছে,আপনি রিয়াকে চাচ্ছেন বুঝলাম কিন্তু আমার কাছে কেনো আর তাকে চাচ্ছেন ভালো কথা এভাবে কান্না করছেন কেনো? 

ছেলে টা বললো ভাইয়া আমি রিয়াকে অনেক ভালবাসি... 
আমি বললাম ভালো কথা এটা ওকে কল করে বললেই তো পারেন,

আমার কাছে কান্নাকাটি কেনো করছেন? 
আমি আপনার কি উপকার করতে পারি?
আচ্ছা আগে এটা বলুন তো আপনার পরিচয় কি?
ছেলেটা বললো–আমার নাম সৌরভ কুমিল্লা থাকি ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়ি.. 
আমি বললাম–বয়স কত আপনার? 
সৌরভ বললো–এইতো ১৯ শেষ প্রাই...
আমি বললাম–তাহলে তুমি আমার জুনিয়র।
আচ্ছা রিয়া কই থাকে?
সৌরভ বললো–কুমিল্লাতেই,

এবার আমি বললাম শোনো ভাইয়া,আমি তোমাকে কিছু কথা বলি, আমার চেনাজানা তেমন কেউ কুমিল্লাতে থাকে না কাছের লোক তো দূরের কথা,তুমি আসলে আমার কাছে কি চাও তোমাদের মধ্যে আসলে কি হয়েছে সেটা আমাকে বলো দেখি আমি তোমার কোনো উপকার করতে পারি কি-না কারণ তোমার কান্নার আওয়াজ শুনে আমার খুব মায়া হচ্ছে, একজন ভাই হিসেবে তোমার জন্য নিজের সাধ্য মত করার চেষ্টা করবো, বলো কি হয়েছে তোমাদের মধ্যে.... 

ছেলেটা একটু কেশে শুরু করলো – ভাইয়া রিয়া এবার নিউ টেনে পড়ে আমি ওকে দুমাস ধরে পছন্দ করতাম কিন্তু কখনো বলার সাহস হয়নি তারপর একদিন আমি আমার একটা খালাতো বোনের হেল্প নিয়ে ওকে বলি আমার  ভালো লাগার কথা.... 

প্রথম প্রথম না করে তারপর হয়তো অও বুঝতে পারে আমি ওকে মন থেকেই পছন্দ করি তারপর আমাদের সম্পর্কটা খুব ভালো হয়ে যায়...

আমি – হুম ভালো... তারপর? 

ছেলেটা আবার একটু আওয়াজ করে কাঁদছে.. 
আমি বললাম সৌরভ এভাবে ভেঙে পরো না তুমি তোমার কথা শেষ করো..
ছেলেটা কাঁপা কণ্ঠে আবার শুরু করলো..

–ভাইয়া আমাদের দিন গুলো খুব ভালো যাচ্ছিলো ওর স্কুল শেষ হলে আমি ওকে নিয়ে ঘুরতে বেরোতাম কোচিংয়ের নাম করে আমার সাথে ও অনেক বের হয়েছে, আমরা প্রচুর টাইমস্পেন করেছি কিন্তু ওর কিছু কিছু কাজ আমার খুব খারাপ লাগতো তার মধ্যে প্রথমেই ওর ছেলে বন্ধু বা ছেলেদের সাথে চলা। ওর ফেসবুক, ইনিস্টার ছবি, ওর ইস্টরিতে নানান রকমের ফান ছেলেদের সাথে মজাঠাট্টা... 

আমার সব বন্ধু বান্ধবরা রিয়াকে চিনতো আর ওর আমার ব্যাপারে সব জানতো কিন্তু ওর কোনো ফ্রেন্ড আমাদের ব্যাপার টা জানতো না,ওকে আমি মাঝে মাঝে বলতাম আজ তোমার কোনো বান্ধবীকে নিয়ে এসো দেখা করতে, কিন্তু ও কখনোই নিয়ে আসতো না কিছু বললে বলতো দেখো আমার বাবা এলাকার চেয়ারম্যান আমি যদি আমার ফ্রেন্ডের তোমার সম্পর্কে বলে দেই তাহলে বাবা জেনে যাবে আর বাবা যদি জেনে যায় তাহলে সব শেষ.......
তাই আমি আর কিছু বলতাম না,আমার ফ্রেন্ডরা আমাকে মাঝে মাঝেই বলতো–কিরে তুমি রিয়াকে কিছু বলিস না ওযে এত মজাঠাট্টা করে ছেলেদের সাথে,আমি ওদের কথার কোনো উত্তর দিতে পারতাম না সব সময় বললাম বাদ দে ঠিক হয়ে যাবে,আমি ওকে ঠিক করে নিবো...আমি প্রথম প্রথম ওকে কিছু বলতাম না আমার খারাপ লাগা আমি আমার নিজের মধ্যেই রাখতাম,কখনো মুখ ফুটে ওকে এসব ব্যাপারে কিছু বলতাম না এসব থেকে বাধা দিতাম না কারণ ওর হাসি আনন্দই আমার আনন্দের কারণ...
ছেলেটা আবার কাঁদতে লাগলো... 

ওর এসব কথা শুনে আমারও খারাপ লাগা শুরু হলো,আমিও যেনো কাউকে মনে মনে মিস করছিলাম,আমার চোখের পাপড়ি গুলো ভিজে আসলো কিন্তু আমি ওকে বুজতে দিলাম না... 
পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছে বললাম,কেঁদো না তারপর কি হয়েছে বলো...

ভাইয়া আমি আর সহ্য করতে না পেরে একদিন ওকে বলেই দিলাম রিয়া তোমার এসব ছেলেদের সাথে মজাঠাট্টার ইস্টরি, ইনিস্টার ফটো এগুলো আমার পছন্দ না...
রিয়া বললো কিহ...এগুলো কি বলছো সৌরভ? তুমি আমাকে সন্দেহ করো,আমাকে নিয়ে তোমার এত জেলাসফিল হয়?
এটাকে ভালবাসা বলে না সৌরভ যেখানে সন্দেহ আছে সেখানে ভালবাসা নেই...

ওর নানান রকম কথায় আমি খুব কষ্ট পাই তারপর আমি কল কেটে দেই, আমি রাগ করলে ওও কখনোই আমার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করতো না সব সময় আমাকেই ওর রাগ ভাঙাতে হত ঝগড়ার পর গোটা একদিন যাওয়ার পর আমি আর কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ওর বাড়ির নিচে যাই, ওকে অনেক বার কল করি কিন্তু ওও ধরছে না, আমি ভাবলাম ও হয়তো ব্যাস্ত তাই আমি দাঁড়িয়ে আছি ওকে আর কল করছি না হঠাৎ ও জানালার পাশে এসে দাড়ালো, দাঁড়িয়ে আমাকে দেখলো দেখে ও অবাক হয়ে বললো সৌরভ তুমি এখানে..... 

এখানে থেকে যা-ও কেউ দেখলে আমার সর্বনাশ হয়ে যাবে আমি বললাম আমি অনেক কল করেছি দেখনি ও বললো দেখিছি ইচ্ছে করেই ধরিনি....

ছেলেটা আবার কেঁদে উঠলো আমি ওকে কি বলে শান্তনা দিবো বুঝতে পারছি না ওর কাহিনি শুনেই আমার চোখে পানি চলে আসছে না জানি ওর কতটা কষ্ট হচ্ছে...
রিয়া মেয়েটা কি মানুষ না, ওকে একটুও বুঝার চেষ্টা করেনি...😔

আমি বললাম সৌরভ ভেঙে পরলে হবে না তারপর কি হয়েছে বলো...

ভাইয়া ওর ফোন না ধরার ব্যাপার টা আমার বুক কাপিয়া তুলেছিলো আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম তবুও ওকে কিছু বলিনি বা বুঝতেও দেইনি...

বাসায় এসে আমি রাতের খাবার না খেয়েই শুয়ে পড়ি..
ওকে কল দিচ্ছিলাম কিন্তু ওও ধরছিলো না খানিকক্ষণ পর ও কল ব্যাক করলো.. 

বললো– দেখো সৌরভ সন্দেহ জিলাস এসব নিয়ে ভালবাসা হয় না, ভালবাসার জন্য সব চেয়ে বড় প্রয়োজন বিশ্বাস, তুমি তো আমাকে বিশ্বাসই করো না, আমাদের সম্পর্ক আজ হোক বা কাল, একদিন না একদিন শেষ হয়ে যাবে, শুধু মাত্র এই সন্দেহ আর জিলাসের কারণ। আর তুমি আজকে আমার বাসায় সামনে এসে দাঁড়িয়ে ছিলে এটা অনেকেই দেখে ফেলেছে আর আমার আব্বুকেও বলে দিয়েছে, বাসা থেকে আমার উপর অনেক চাপ আসছে সৌরভ, একদিকে তোমার সন্দেহ আরেক দিকে বাবা মায়ের কথা উফফফ,,,, আমি আর পারছি না... 

তুমি ভালো থাকো সৌরভ, আমাকে ভুলে যাও, সব সময় তোমার জন্য দোয়া করি তুমি ভালো কাউকে পাও, তুমি অনেক ভালো ছেলে অবশ্যই তুমি তেমন কাউকেই পাবে....

এটা বলে ও কল কেটে দিলো,আমি অনেকবার কল ব্যাক করলাম কিন্তু ও আর ধরলো না আমি না পেরে কান্না করে দিলাম, পাশের রুম থেকে আব্বু আম্মু চলে আসলো, আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না কিছুক্ষণ পর আব্বু চলে গেলো, আমি আম্মুকে সব খুলে বললাম আম্মু আমাকে বারবার এবুঝটাই দিচ্ছিলো দেখ বাবা ও চেয়ারম্যানের মেয়ে, আমাদের সাথে ওদের যায় না ওরা অনেক উঁচু সমাজের লোক,ওদের অনেক টাকা, তোর কাছে ওদের মেয়েকে ওরা কখনোই দিবে না, এটা বলে আম্মুও কান্না করে দিলো আমি আম্মুর কান্না সহ্য করতে না পেরে নিজে চুপ হয়ে আম্মুকে বললাম যাও তুমি ঘুমাও তারপর মুখ চেপে কাঁদতে কাঁদতে আমিও ঘুমিয়ে পরলাম...

পরের দিন সকাল বেলা উঠে শুনি আমার ফোন আব্বু নিয়ে আলমারিতে রেখে দিয়েছে, আমাকে আর ফোন দিবে না, আর আমার বাইরে যাওয়াও বন্ধ.. 
কিছুদিন পর আমি নামাজের কথা বলে বাসা থেকে মাঝে মাঝেই বের হতাম... 

আমার বিশ্বাস ছিলো রিয়া আমাকে কল করছে আমি ওর নাম্বারে এই দোকান থেকে অনেক কল করেছি কিন্তু ও ধরে না, হয়তো রং নাম্বার তাই ধরে না অনেক মেসেজ করেছে তাও রিপ্লাই দেয় না আমার কথাও বলেছি তবুও রিপ্লাই দেয় না.... 

তাই আমি আমার এক বান্ধবীকে ওর কাছে পাঠিয়ে ছিলাম আমার বান্ধবী এসে বললো ও নাকি আমাকে কোনোদিন কল করেনি সেদিনের পর থেকে... 

ভাইয়া আমি নিজেকে মানাতে পারছিলাম না, আমার বান্ধবী আরও বললো রিয়া নাকি বলেছে ওর ফোনও নাকি ওর বাবা নিয়ে গেছে ও নাকি লুকিয়ে ছোট একটা ফোন চালায়...
তাই আমার বান্ধবীকে আমি বললাম ওই নাম্বার টা আমাকে এনে দে, তারপর আমার বান্ধবী আমাকে এই নাম্বার টা এনে দেয় যেটা আপনার নাম্বার..... 

আমি বললাম তারপর? 
ছেলেটা বললো–তারপর থেকেই আপনাকে এত মেসেজ করা,আমি ভাবলাম রিয়ার বাসায় তো প্রব্লেম কল করলে যদি আরও প্রব্লেম হয় তাই আমি মেসেজ করতাম সব সময় কিন্তু আমি তো জানতাম না এটা ওর না অন্য কারো নাম্বার...

আমি বললাম আমার নাম্বার টাই কেনো দিলো আর ও কি আমাকে চিনে? 
আর তুমি দোকান থেকেই বা কেনো,তোমার কোনো ফ্রেন্ডের নাম্বার থেকেও তো এই নাম্বারে কল বা মেসেজ করতে পারো... 

তারপর আমি যে উত্তর টা পেলাম সেটা শোনার পর আমার কিছুক্ষণের জন্য কেমন যেনো রক্ত চলাচল বন্ধ ছিলো.. 

সৌরভ বললো ভাইয়া–আমি তো এটাই পারি না, আমার বিশ্বাস ও আমার মেসেজ কল একদিন না একদিন ধরবে ওর মন একদিন না একদিন আমাকে ডাকবে কিন্তু আমি যদি আমার কোনো ফ্রেন্ডের নাম্বার থেকে ওকে কল বা মেসেজ করি  তারপর যদি ও ব্যাক করে তাহলে তো আমি না আমার বন্ধুর সাথে কথা বলবে ও আর আমি এটা কখনোই মানতে পারবো না ও অন্য কোনো ছেলের সাথে কথা বলছে....😔😔

আর আমি তো নামাজের সময় ছাড়া বেরও হতে পারি না আর এত অল্প সময় নিয়ে আমার কোনো বান্ধবীর সাথে দেখাও করা হয় না... 

এই বলে সৌরভ ওর কথা শেষ করলো এবং কাদতে থাকলো আমি ওকে কিছুতেই বুঝাতে পারছিলাম না...
আমার কাছে ও পরামর্শ চাইলো কি করলে কষ্ট কম হবে...

আমি ওকে বললাম তোমার সাথে আমার আবার কবে কথা হবে?
ও বললো যেদিন আমি এটা ক্লিয়ার হতে পারবো ও আপনার নাম্বার কেনো দিলো..

আমি বললাম–এর জন্য তুমি কতদিন সময় নিবে?

ও বলল–এক সপ্তাহ.... 

আমি বললাম তুমি এই এক সপ্তাহে আরিফ আজাদ ভাইয়ের বেলা ফুরাবার আগে বইটা পড়বা,তোমার যতদিন পর্যন্ত এই বই পড়া শেষ না হবে ততদিন তুমি আমাকে কল করবা না এমন কি তোমার কাজ শেষ হলেও না...

তোমার এই পরিস্থিতিতে এই বই এক মাত্র শক্তি পড়ো জানো আশা করি সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে.....

বিদ্রোহী : গল্পটা এখানেই শেষ নয় এই গল্পের দ্বিতীয় তৃতীয় পাঠ নিয়ে আপনাদের সাথে আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ. 

ভালো থাকবেব, ধন্যবাদ. 🖤

-Ashiqur Rahman aksh-
Previous Post Next Post